বরিশাল নগরীতে নুরুজ্জামান হাওলাদার (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর ঘরের বাইরে তালা দিয়ে স্ত্রী নাসিমা বেগম পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে মহানগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাকাঠি কলোনির একটি ভাড়া বাসা থেকে নুরুজ্জামানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত নুরুজ্জামান হাওলাদার বরিশাল আদালতের এক আইনজীবীর মুহুরি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের পূর্ব তয়কা গ্রামের মৃত সাত্তার হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে পারিবারিক বিষয় নিয়ে নুরুজ্জামানের সঙ্গে স্ত্রী নাসিমার দাম্পত্য কলহ চলছিল। এরই জেরে সোমবার দিবাগত রাতে তাদের মধ্যে বিরোধের ঘটনা ঘটে। ওই বিরোধের একপর্যায়ে নুরুজ্জামানকে আঘাত করার পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। পরে বাসার বাইরে থেকে তালা দিয়ে নাসিমা পালিয়ে যান বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
বরিশাল এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে বাসার তালা ভেঙে নুরুজ্জামানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ওসি আরও জানান, কর্মসূত্রে নুরুজ্জামান ও তার স্ত্রী ইছাকাঠি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ঘটনার পর থেকে নাসিমা বেগম পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পলাতক স্ত্রীকে আটকের চেষ্টা চলছে। হত্যাকাণ্ডের পুরো বিষয়টি তদন্তে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।