সিলেট ও সুনামেঞ্জের পাথর কোয়ারিগুলো চালুর সম্ভাব্যতা যাছাইয়ে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি কাজ শুরু করেছে।
রোববার( ১৭ মে) সকালে ওই কমিটির সদস্যরা সিলেটের বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারী পরিদর্শন করেন। কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান।
এরআগে গত ৭ মে সচিবালয়ে ‘সিলেট বিভাগের পাথর ও বালু মিশ্রিত পাথর কোয়ারির সর্বশেষ অবস্থা ও করণীয়’ বিষয়ে বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে পাথর কোয়ারীগুলো পরিবেশ রক্ষা করে সীমিত আকারে ইজারা প্রদানের লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটির আহবায়ক করা হয় সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারকে।
রোববার বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে এ কমিটি বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারী সরজমিন পরিদর্শন করেছেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: নুরে জামান চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) জাকির হোসাইন, গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার রতন কুমার অধিকারী, নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিয়োজিত কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।
পাখর কোয়ারি চালুর ব্যাপারে গত ৭ মে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, সিলেট ও সুনামগঞ্জের কোয়ারিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, খনিজ সম্পদ আইন এবং বিদ্যমান বিধিমালা অনুসরণ করে কোথায় সীমিত আকারে পাথর উত্তোলন করা যেতে পারে, তা নির্ধারণে একটি সমন্বিত জরিপ চালানো হবে।
তিনি বলেন, ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) ঘোষিত জাফলংসহ সংবেদনশীল এলাকাগুলো এই প্রক্রিয়ার বাইরে থাকবে। এসব অঞ্চল বাদ দিয়ে অন্যান্য স্থানে নিয়ন্ত্রিতভাবে কোয়ারি ইজারা দেওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। ‘পরিবেশ বাঁচিয়ে’ পাথর উত্তোলনের উদ্দেশ্যে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয় বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
জানা গেছে, কমিটিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশের প্রতিনিধি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক, খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন পরিচালক এবং দুই জেলার পুলিশ সুপার এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের সদস্য করা হয়। প্রয়োজনে কমিটি আরও বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।