গভীর রাতে শুরু হয় বালু উত্তোলন। রাতারগুল জলারবন লাগোয়া চেঙ্গেরখাল নদী (সারি-গোয়াইন) থেকে বালুখেকোরা প্রায় রাতেই অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলনে করে। ফলে বনে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন। এতে বনভূমির পরিমাণ কমছে। এভাবে বালু উত্তোলন চললে মিঠাপানির এই ছোট্ট বন আরও বিপন্ন হবে।রাতারগুল জলাবনের একটি বৈচিত্র্যময় বাস্তুতন্ত্র আছে। ৫০৪ একরের এই বন রক্ষায় রাতারগুল জলারবনকে অনতিবিলম্বে বাস্তুসঙ্কটাপন্ন বা প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।
পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেট শাখার পক্ষ থেকে রাতারগুল জলার বনের ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে রবিবার বিকাল পাঁচটায় রাতারগুল গ্রামের মাঝেরঘাটে আয়োজিত গ্রামীণ নাগরিক সভায় এই দাবি জানানো হয়।
গ্রামীণ নাগরিক সভায় সভাপতিত্ব করেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেটের আহ্বায়ক ডা. মোস্তফা শাহাজামান চৌধুরী। মূল বক্তব্য রাখেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’র কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য আব্দুল করিম কিম।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট এর ট্রাস্টি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরী, ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ফখরুদ্দিন চৌধুরী, পরিবেশকর্মী নাহিদ পারভেজ বাবু, রাতারগুল গ্রামের আমির আলী, আরব আলী, সোনা মিয়া, ফখরুল ইসলাম, মিনহাজ উদ্দিন, দুলু মিয়া, ফজলু মিয়া, শাহাবুদ্দিন ও রাতারগুল সমাজ কল্যান পরিষদের সভাপতি আল-আমিন।
আব্দুল করিম কিম বলেন, একটি বালুখেকো চক্র প্রায় রাতেই রাতারগুল জলারবনের পাশে নদী থেকে মেশিন লাগিয়ে অবৈধ্য উপায়ে বালু উত্তোলন করে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে একাধিকবার বলা হলেও স্থানীয় প্রশাসন অদ্যাবধি কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিত বালি উত্তোলন চলছেই। যার প্রভাবে বনের পাড়ে নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এই ভাঙ্গনে বন সংকুচিত হবে। বাংলাদেশে মিঠাপানির বন বলতে রাতারগুলকেই বোঝায়। এই বনের প্রতিবেশগত গুরুত্ব অপরিসীম। তাই বনরক্ষার জন্য বালুখেকোদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ ও রাতারগুল জলারবনকে অবিলম্বে বাস্তু সংকটাপন্ন বা প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করতে হবে।
ডা. মোস্তফা শাহাজামান চৌধুরী বলেন, অনুমোদনহীন বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের যেখানে সক্রিয় থাকার কথা সেখানে রাতারগুল জলারবনের মত প্রতিবেশগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ক্ষতি করে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের নিরবতা হতাশাজনক।
পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট এর ট্রাস্টি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি সরকার সাদাপাথর, বিছনাকান্দি, শাহ আরেফিন সহ কিছু এলাকাকে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া ঘোষণার উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগে রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট নেই। রাতারগুলকে ইসিএ ভুক্ত না করা হলে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগ রয়েছে।