জপুরহাটে পলি পড়ে নদী ভরাট হয়ে হারিয়েছে নাব্যতা

প্রকাশিত: ৩:৫৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০১৯

যতদূর দু’চোখ যায় শুধু সবুজের সমাহার। না এটা কোন শস্যের মাঠ নয়। জয়পুরহাটের নদী ও নদীর তলদেশের দৃশ্য। পলি পড়ে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে, হারিয়ে নাব্যতা। ফলে খরার সময় নদীতে থাকেনা পানি। আর বর্ষার সময় একটু পানি হলেই নদীর দুই কূল উপচে পড়ে পানি আশেপাশের ক্ষেতের ফসল ডুবে নষ্ট হয় ফসল। তাই জলার ওপর দিয়ে বয়ে চলা নদী গুলো খননের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র বাসস’কে জানায়, জয়পুরহাটে মূলত ৪ টি নদী রয়েছে। এ গুলো হচ্ছে ছোট যমুনা, তুলশীগঙ্গা, হারাবতী ও চিরি নদী। এ ৪টি নদীর দৈর্ঘ মোট ১২৩ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে ছোট যমুনা নদীর দৈর্ঘ ৩৪ দশমিক ১ কিলোমিটার ও প্রস্ত নদীর তলদেশ গড় ৫০ মিটার। তুলশীগঙ্গা নদীর দৈর্ঘ্য ৫১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার ও প্রস্ত ২০ দশমিক ১৪ থেকে ৩০ দশমিক ১৭ মিটার। হারাবতী নদীর দৈর্ঘ্য ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার ও প্রস্ত ১৫ মিটার এবং চিরি নদীর দৈর্ঘ্য ২১ দশমিক ৭০ কিলোমিটার ও প্রস্ত ১৫ মিটার। এককালের খড়¯্রােতা ছোট যমুনা ও তুলশীগঙ্গা নদী দিয়ে চলতো পাল তোলা বড় বড় নৌকা, পরিচালিত হতো জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যও। কিন্তু সেই নদী গুলোতে পলি পড়ে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। খরার সময় থাকে না পানি ও চলেনা নৌকা। আর এ সময় নদীর তলদেশ হয়ে যায় ফসলের ক্ষেত। বর্ষার সময় একটু বৃষ্টির পানিতেই পানি উপচে নদীর দুই কূলের ফসল ডুবে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ ছাড়াও বাঁধ দখল করে, অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এ অবৈধ বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং এ গুলো উচ্ছেদে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইশরাত ফারজানা। বর্তমানে এ নদীগুলোর ১২৩ দশমিক ৩৫ কিলোমিটারের অধিকাংশ রয়েছে ধানের ক্ষেত। জয়পুরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী এ কে নজমূল হাসান জানান ২০১২ সালের ২২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জয়পুরহাটে সফরে এলে তিনি তুলশী গঙ্গা, ছোট যমুনা, হারাবতী ও চিরি এ ৪ টি নদী পুনঃখননের নির্দেশ দেন। সেই মোতাবেক ’জয়পুরহাট জেলার তুলশীগঙ্গা, ছোট যমুনা, হারাবতী ও চিরিনদী পুঃখনন প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত প্রকল্প’ নামে তৈরি করা হয়। প্রথমে এ প্রকল্পটি ছিলো এলজিইডিতে। পরে এটি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তর করা হয়। ২০১৬ সালে জয়পুরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিপিপি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোফরমা সেপ্টেম্বর মাসে ওই ৪ টি নদীর ১০২ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য নদী দেড় থেকে ২ মিটার গভীর পুনঃ খননের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়। এটি বাস্তবায়নের জন্য চাওয়া হয়েছে ১২৩ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে প্রকল্পটি পুনর্গঠিত করে আবার পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একনেকে পাঠানো হয়। বর্তমান এ প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানান জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড: সামছুল আলম দুদু।