ক্যারিয়ারে প্রিন্সের মুন্সিয়ানা

চাকরি করার থেকে চাকরি দেওয়ায় সার্থকতা অধিক তাইতো উদ্যোক্তা হবো

প্রকাশিত: ১:০৮ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৯, ২০২১

পড়াশুনা যার কাছে বিলাসিতা ক্যারিয়ার তার কাছে কেবল একটা ভিনদেশী শব্দ এমনটিই মনে করেন এসময়ের ক্রিয়েটিভ ফ্যাশন ডিজাইনার ও অনলাইন একটিভিস্ট প্রিন্স মাহমুদ রহিম।ক্যারিয়ার জন্য নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবদ্ধ গতানুগতিক নিয়মকানুন পালন করেন কেবল শখের বসে এবং কিছুটা জানার আশায়। ছেলেদের ফ্যাশন নিয়ে আলাপচারিতায় চলে গিয়েছিলাম তার ছোট বেলায়।বড় হয়েছে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে।তার জন্ম গোপালগঞ্জ জেলার টুংগীপাড়া উপজেলায়।মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়েছেন গ্রামের স্কুল থেকে।তারপর উচ্চমাধ্যমিক ড. ইমদাদুল হক মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজ থেকে।পরবর্তীতে পাড়ি জমান ঢাকায় উচ্চ শিক্ষার জন্য।নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করতে না পারায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তন করেছেন জামাকাপড়ের মত।প্রথমে চার্টার্ড এ্যাকাউন্ট ইউনিভার্সিটি কলেজে এসিসিএ,তিনমাসেই আগ্রহ শেষ,তারপর এলএলবি ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিতে।বিশেষ কারনে ঢাকা ছাড়তে হয় পরবর্তীতে ভর্তি হন সরকারি বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে বিবিএ তে। বিবিএ করার পাশাপাশি ডিপ্লোমা কমপ্লিট করেছেন ফাইন আর্ট ও ফ্যাশন ডিজাইনের উপর। বিবিএ শেষ করে এখন পড়ছেন এক্সিকিউটিভ এমবিএ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।পড়াশুনার পাশাপাশি সৃজনশীল লেখালিখি তে সম্মাননা পেয়েছেন কয়েকবার।ছোট বেলার শখ ছবি আকা নেশার বসে একটা সময় শিল্পকলা পদক ও পেয়ে যান।পড়াশুনা এবং এ সকল কার্যাবলীর সাথে যে বিষয়ে সবথেকে সময় দিয়েছেন সেটা রেডিও এবং টেলিভিশন। আরজে এবং নিউজ ব্রডকাস্টার হিসেবে কাজ করছেন বেশ কটি রেডিও এবং টেলিভিশনে।ক্রিকেট খেলার প্রতি তার অবাদ নেশা নিজে খেলতে পছন্দ করেন ভয়েস নিয়ে।গল্পের ছলে তাকে প্রশ্ন করেছিলাম নিজেকে এক মিনিটে বিশ্লেষণ করুন তো রীতিমত অবাক করে দিয়ে নিজের সম্পর্কে এত দ্রুত এবং আশ্চর্যজনক কিছু উদ্ভট তথ্য দিলেন”আসলে আমি ৮০% বেসিরিয়াস একজন মানুষ। সিরিয়াস কিছু আশা করলে ভুল করবেন। পশু -পাখীর কষ্ট একদম সহ্য করতে পারিনা। প্রানীর মাঝে বিড়াল খুব বেশি প্রিয়। ছোটবেলার বদভ্যাস থেকে এখনও আঁকাআঁকি করিকোনো ব্যকরণ ছাড়াই। কাজ না থাকলেই হলো।অবশ্য আগের মতো সময় আর এখন পাই না। তাই বলে একেবারে ছেড়ে দিয়েছি, এমনটাও নয়। সুযোগ পেলে আর মন ভালো থাকলেই শুরু হয়ে যায় জীবনের পিছনে ফিরে তাকাইনা। যদিও ভুল করে চোখ মাঝে মাঝে পেছনে তাকায়! চলা ফেরা পুরোটাই মনের বলা পথে , যদিও এটা ঠিকনা !!নিয়মিত আড্ডা না মারলে ভাত হজম হয় না । অভ্যাসটাএখন কম। সম্ভবত আমি বেশি কথা বলিনা,সুযোগ পেলে কেউ আমার সাথে কথা বলে পারেনা। খুব গম্ভীর একটা ভাব আছে।কৌতুক বলার চেয়ে ঘটাই বেশি।ভাজা -পোড়া খেতে বেশি পছন্দ।(যদিও ক্ষতিকর)সবসময় সুখে থাকি। অন্তত চেষ্টা করি।অতিমাত্রায় ভালোবাসা পাগল। যদিও প্রেম-টেম আমার দ্বারা হয় না।ধবধবে ফর্সা বা অতি সুন্দরী মেয়েদের খুব একটা পছন্দ করি না, অন্তত নিজের জন্য শ্যামবর্ণের বা মায়াবি চেহারার মেয়েদের প্রতি বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে। এবং সেটা প্রায় প্রচণ্ড।মাঝে মাঝে বর্ণ দিয়ে কিছু যন্ত্রণা প্রকাশ করি।অনেকে এগুলোকে কবিতা বলে থাকেন। নির্দিষ্ট কয়েকজন বাদে অন্য যে কেউ আমার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কিছু বললে প্রচন্ড মেজাজ খারাপ লাগে। শেষ কথা :আপনি যাই বলুন, আমি আমার মতোই থাকবো। যখন যা খুশি তাই করবো। কথাটা মন্দ হলেও এটাই সত্য। শেষ প্রশ্ন: জীবনে এত কিছু করেছেন এত বিষয় নিয়ে জ্ঞানার্জন করছেন ক্যারিয়ার হিসেবে পছন্দের তালিকায় কি রয়েছে,বা কি করতে চান? প্রিন্স: আসলে আমি যা কিছু করছি এটাই আমার ক্যারিয়ার সুযোগ পেলে আরো বিষয় নিয়ে জানার ইচ্ছে আছে।সিনেমা নিয়ে পড়াশুনার ইচ্ছেটাও খুব সময়ের অভাবে পারছিনা। ভবিষ্যতে সিনেমা বানানোর ইচ্ছে আছে,নায়ক হতে চান? প্রিন্স: সিনেমা বানানোর ইচ্ছে অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি ও আছে তবে নায়ক হতে চাইনা।পরিচালক হতে চাই।ভিন্নধর্মী চলচিত্র নির্মাতা হতে চাই। এটাকেই ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চাচ্ছেন? প্রিন্স:ঠিক এমন টা না এটা আমার শখ,পেশা হিসেবে না নেশা হিসেবে নিতে চাই।আর ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের কথা যদি বলেন তাহলে বলবো আমি একজন ব্যাবসায়ী হতে চাই একদম স্বাধীন পেশা।যদিও এখন ফ্যাশন ডিজাইনার এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কাজ করছি তবে এটাকে বেইজ করে বিজনেস শুরু করতে চাই।বায়িং হাউজ করার ইচ্ছে নিজের একটা কর্পোরেট ফার্ম হবে পাশাপাশি আইটি নিয়েও কাজ করতে চাই।ঢাকা শহরে রেস্তোরা কফিশপ জমজমাট ব্যাবসা এটার দিকেও ঝোক আছে বেশ।তবে আমার মনে হয় চাকরি করার থেকে চাকরি দেওয়ায় সার্থকতা অধিক তাইতো উদ্যোক্তা হবো।