নেত্রকোণার খালিয়াজুরীতে ফসল রক্ষার বাঁধ কেটে মাছ ধরার অভিযোগ

Rubel Rubel

Hossain

প্রকাশিত: ১০:১০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০২০

সোলাইমান হোসাইন রুবেল, নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ

হাওরাঞ্চলের ফসলরক্ষায় সরকার যেখানে প্রতি বছর কোটি কোটি ব্যয় করে বাধঁ নির্মাণ করে সেখানে কিছু অসাধু লোক মিলে বাঁধ কেটে ভিম জাল দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরার মত অপরাধ মূলক কাজ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নেত্রকোণা খালিয়াজুরী উপজেলার গাজীপুর ও মেন্দিপুর ইউনিয়নের সীমানা রসুলপুর হইতে ফেনীর সুইস গেইট পর্যন্ত হোল্ডার নং ৪ এর আওতাধীন আনুমানিক ৩/৪ কিঃ মিঃ ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মানের ফলে কয়েকটি এলাকার বোর/ ইরি ফসল অকাল বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেয়ে থাকে পক্ষান্তরে বর্ষার পানি সরে গেলে বাঁধটি স্বাভাবিক ভাবে জেগে উঠলে বাঁধের ভিতরে ফসল রক্ষার জন্য পানি স্বেচের সুবিধা বৃদ্ধি পায়, এবং কৃষক অতি সহজে পানি স্বেচ করে ফসল ফলিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।

অভিযোগে জানা যায়, চলতি বছরে এই বাধঁটির বিভিন্ন জায়গায় খালিয়াজুরী উপজেলার বয়রা গ্রামের কিছু অসাধু ব্যক্তিগণ দুলাল মিয়া-পিতা মৃত আলী হোসেন, ওহেদনুর – পিতা মৃত রজব আলী, আক্কাস – পিতা মৃত কডু মিয়া, খোকন – পিতা মৃত আজব আলী, হালিম – পিতা মৃত নয়াব আলী, লুতফুর – পিতা – মৃত রজব আলী, মোসাহিদ পিতা – মুসলেম উদ্দীন, নাছির পিতা – মৃত রজব আলী, আকাইদ পিতা – মুসলেম উদ্দীন, আফজাল মৃত আলী হোসেন, অসিদ পিতা – নয়াব আলী, সবেল পিতা – ইমান উদ্দিন সহ আরও অনেকে মিলে বয়রা গ্রামের নয়ানগর মৌজার কেদারিয়া বিল টেন্ডারের মাধ্যমে বাৎসরিক ৮,৫০০/ টাকা এবং কুলিরদাইর খাস কালেকশনের মাধ্যমে কেবল মাত্র আনুমানিক ১০,০০০/ টাকায় ইজারা নিয়ে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ভাবে উপজেলা প্রশাসনের চোখে ফাকি দিয়ে সামান্য অর্থের বিনিময়ে ইজারা নিয়ে অবৈধ ভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা রোজগারের উদ্দেশ্যে বাঁধের নিম্ন এলাকায় যেখানে পানির স্রোত বেশি এরকম কয়েকটি স্থানে রাতের অন্ধকারে কেটে দেওয়া হয়। এ-কারণে বাঁধটি জেগে উঠার আগেই ঐ সমস্ত কাটা জায়গায় দিয়ে পানি নামতে থাকে। সেই জায়গাগুলোতে রাতের আঁধারে এমন কি দিনের বেলায় ভিমজাল দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ ধরে এই অসাধু ব্যক্তিরা। এলাকাবাসীর স্বার্থে বোর/ ইরি ফসল ও বাঁধটি রক্ষার জন্য নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন দপ্তর বরাবর বিগত ১৪/৯/২০২০ ইং তারিখে অভিযোগের মাধ্যমে বিয়টি অবহিত করা হয়।

অভিযোগ কারীদের মধ্যে ইসমাইল মিয়া ৪ নং হোল্ডারের পি আই সি সভাপতি ও মোঃ আরিফ মিয়া ৪ নং হোল্ডারের পি আই সি সম্পাদক জনান, আমরা জেলা প্রশাসক সহ আরও কয়েকটি দপ্তরে অভিযোগ করেছি। এ বিষয়ে কোন তৎপরতা না থাাকায় পরিকল্পিত ভাবে রাতের আঁধারে ও দিনের বেলায় ক্ষমতাশালী এই অসাধু ব্যক্তিরা বাঁধের কাটা জায়গা গুলোতে ভিমজাল দিয়ে অবৈধভাবে মাছ ধরে যাচ্ছে। এখন বাঁধটি রক্ষার স্বার্থে এই অসাধু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা প্রশাসনের নিকট অনুরোধ জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি এমনকি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। কিন্তু পুলিশ যাওয়ার পর কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়না। আমরা বাঁধ কেটে মাছ ধরার মত এই অপরাধ মূলক কাজ বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং ভিম জালের উপর আমাদের মোবাইল কোর্ট অভিযান অব্যাহত রয়েছে।